![]() |
বৈদেশিক বিনিয়োগ (ছবি : প্রতীকী) |
সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের অপার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও আকৃষ্ট হচ্ছে এ দেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে।
অর্থনীতিবিদ, স্টকহোল্ডার ও বাজার নিয়ন্ত্রকদের মতে, বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের গৃহীত বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপ। প্রতিযোগিতামূলক শ্রম ব্যয় ও দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতির কারণে বাংলাদেশে এমনি একটি বাজার তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে ২.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত বাংলাদেশে ২.৬০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির প্রবেশ ও ব্যবসা প্রসারিত করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইমারহাব। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে বৈধ উপায়ে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যা করতে হবে, তার একটি নির্দেশনা তৈরি করেছে।
সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে হলে প্রথমে দুটি ব্যবসায়িক কাঠামোর ব্যাপারে জানতে হবে। এগুলো হলো- (১) লিমিটেড লিয়াবিলেটি (দায়) কোম্পানি (এলএলসি) ও (২) পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি)।
লিমিটেড লিয়াবিলেটি (দায়) কোম্পানি (এলএলসি)
এ ধরনের ব্যবসায়িক কাঠামোতে শেয়ারহোল্ডারদের দায় কম। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, এলএলসির নিবন্ধিত হতে কমপক্ষে দুজন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন্য শেয়ারহোল্ডার প্রয়োজন, দুজন পরিচালকসহ। কারও বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেই তিনি অনায়াসে এলএলসির জন্য নিবন্ধন করতে পারেন। বাংলাদেশে এলএলসি পুরোপুরিভাবে বৈদেশিক মালিকানাধীন হতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি)
এলএলসিতে যেখানে দায় কম, সেখানে পিএলসিতে দায় সীমাহীন বা অসীম। পিএলসিতে কমপক্ষে ৭ জন শেয়ারহোল্ডার থাকতে হয়। সে সঙ্গে থাকতে হয় ৩ জন পরিচালক। তবে সর্বোচ্চ কতজন শেয়ারহোল্ডার থাকতে পারবে তার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। প্রতিজন শেয়ারহোল্ডারের বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা তাদের পছন্দমাফিক যে কারও কাছে নিজ নিজ শেয়ার বিক্রি করতে পারেন।
এ ধরনের ব্যবসায়িক কাঠামোতে কোম্পানি জনগণের কাছে শেয়ার ছাড়ে। আর এ ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো জনগণের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে। সাধারণত পুরো প্রক্রিয়াটাই হয়ে থাকে স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধনের মাধ্যমে।
তবে যে ব্যবসায়িক কাঠামোতেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক না কেন, সেজন্য প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের ধাপসমূহ জানা যাক-
নামের ছাড়পত্র বা অনুমোদন : বাংলাদেশে একটি কোম্পানির নিবন্ধনের প্রথম ধাপ হলো রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) কাছ থেকে নামের অনুমোদন পাওয়া।
প্রয়োজনীয় নথিগুলোর খসড়া তৈরি : দ্বিতীয় ধাপে কোম্পানির আইন-কানুন, নিয়মনীতি ও স্মারকের কাগজপত্রগুলোর খসড়া তৈরি করতে হবে। আর সেটা করতে হবে আরজেএসসির নির্দেশনা মেনে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা: তৃতীয় ধাপে কোম্পানির প্রস্তাবিত নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি যদি বিদেশিকর্মী নিয়োগ দেয়, তবে অভ্যন্তরীণ রেমিটেন্স হিসেবে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে অন্তত ৫০ হাজার ডলার রাখা আবশ্যক।
নথিসমূহ আরজেএসসির কাছে জমা দেওয়া : ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পর যাবতীয় কাগজপত্র আরজেএসসির কাছে জমা দিতে হবে। সে সঙ্গে পরিশোধ করতে হবে আরজেএসসির নির্ধারিত নিবন্ধন ফি। এই ধাপে আরজেএসসির কাছে কোম্পানির নিবন্ধনের সনদের ব্যাপারে অনুরোধ করা যাবে।
নিবন্ধনের পর করণীয় : আরজেএসসির কাছ থেকে নিবন্ধনের সনদ পাওয়ার পর কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আরও বেশ কয়েকটি কাজ করতে হবে। এগুলো হলো- ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট আইডেনটিফিকেশন নম্বর ও ভ্যাট নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করা।
কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশে সাধারণত ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এসব কার্য সম্পন্ন করতে হয়।
এরপর আসে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্রাঞ্চ বা শাখা খোলার পালা। কোম্পানির শাখা সক্রিয়ভাবে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির (বিআইডিএ) অনুমতি প্রয়োজন। কোম্পানির কেন্দ্রীয় অফিস থেকে ব্রাঞ্চের যাবতীয় কার্যাবলী তদারকি করা হয়।
এছাড়া ব্রাঞ্চগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার্থে কয়েকজন প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়। যাদের জন্য তৈরি হয় আলাদা অফিস। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির অনুমোদন দরকার।