![]() |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন ঢাকার দুই মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস (ছবি : সংগৃহীত) |
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিজয়ী হলেও মেয়রের দায়িত্ব নিতে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে আতিকুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে।
তবে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচিত দুই মেয়র এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ ও শপথ হতে পারে।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উত্তরে আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণে শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র পদে জয় লাভ করেন। নির্বাচিত দুজনই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানান, নবনির্বাচিতদের নাম, ঠিকানাসহ ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সবধরনের প্রস্তুতি সেরে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের জন্য এই সপ্তাহেই পাঠানো হতে পারে। এরপর শপথের বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগ দেখবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়রের দায়িত্বে থাকা সাঈদ খোকন সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। ফলে তিনি মেয়র পদে বহাল আছেন। অন্যদিকে, আতিকুল ইসলাম ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় পদত্যাগ করে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণে নির্বাচন হয়েছিল, ভোটে মেয়র হিসেবে বিজয়ী হন সাঈদ খোকন। তার করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ১৭ মে। ফলে তার মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৬ মে।
একই দিন অর্থাৎ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল দক্ষিণের মতো ঢাকা উত্তর সিটিতেও ভোট হয়েছিল, তাতে মেয়র হন আনিসুল হক। ভোট হওয়ার পর তার করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ১৪ মে। সেই হিসাবে ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে আগের নির্বাচিতরা। তবে আনিসুল হকের মৃত্যুতে গত বছর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আতিকুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হয়ে নয় মাস দায়িত্ব পালন করেন।
নতুন নির্বাচিত মেয়রদের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. আবদুল মোবারক বলেন, বর্তমান সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রয়াত আনিসুল হক নেতৃত্বাধীন করপোরেশনের প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের মেয়াদ। তবে নতুন যে আসলেন তিনি নির্বাচিত হয়ে থাকবেন। গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ করে তাকে অপেক্ষা করতে হবে মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের বেলায় একই নিয়ম প্রযোজ্য। নিয়ম অনুযায়ী, সাঈদ খোকনের মেয়াদ শেষে তাপস দায়িত্ব নেবেন। তবে উত্তরে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপনির্বাচনে আতিক মেয়র হন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি পদত্যাগ করেন। ফলে উত্তরে মেয়রের আসন শূন্য রয়েছে।
সাবেক ইসি সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, যত দূর মনে হয় নতুন নির্বাচিতদের সবাইকে আগামী মে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এর মধ্যে গেজেট ও শপথ হতে কোনো বাধা নেই।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১ হাজার ১৫০টি কেন্দ্রের ফলে ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বেসরকারিভাবে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন। যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রাপ্ত ভোট ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৯ মিনিটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বেসরকারিভাবে তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, ঢাকা উত্তর সিটির ১ হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রের ফলে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১১ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বেসরকারিভাবে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন। যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তাবিথ আউয়ালের প্রাপ্ত ভোট ২ লাখ ৪১ হাজার ১৬১। শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বেসরকারিভাবে আতিককে বিজয়ী ঘোষণা করেন।